খুলনায় বিএসটিআইয়ের বিশেষ অভিযান: নিষিদ্ধ পণ্যের উপস্থিতি মেলেনি, ২ প্রতিষ্ঠানকে সতর্কবার্তা
বাজারে মানহীন ও নিষিদ্ধ পণ্যের বিপণন ঠেকাতে খুলনায় দিনব্যাপী বিশেষ সার্ভিল্যান্স (তদারকি) অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিএসটিআইয়ের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে খালিশপুর ও দৌলতপুর এলাকার মোট ১০টি সুপার শপ, মুদি দোকান ও কসমেটিকসের দোকানে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে বিএসটিআই কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত ৮টি পণ্যের উপস্থিতি তল্লাশি করা হয়। স্বস্তির বিষয় হলো, পরিদর্শিত কোনো প্রতিষ্ঠানেই নিষিদ্ধ এসব পণ্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে প্রয়োজনীয় সনদ না থাকায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
অভিযানের বিস্তারিত চিত্র
অভিযানকালে মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ৮টি প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ কোনো পণ্যের নমুনা পাওয়া যায়নি। তবে দুটি প্রতিষ্ঠানে সনদের ঘাটতি থাকায় তাদের বিরুদ্ধে নির্দেশনামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়:
হোসেন ফুড (ট্রাফিক মোড়, দৌলতপুর): এখানে নিষিদ্ধ ৮টি পণ্যের কোনো নমুনা পাওয়া না গেলেও বিস্কুট, ব্রেড ও কেক পণ্যের অনুকূলে ‘সিএম সনদ’ এবং ‘মোড়কজাত নিবন্ধন সনদ’ পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটিকে আগামী ০২ (দুই) কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সনদ গ্রহণের লক্ষ্যে আবেদনপত্র দাখিলের জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
শামীম হোটেল (ট্রাফিক মোড়, দৌলতপুর): প্রতিষ্ঠানটিকে ফার্মেন্টেড মিল্ক পণ্যের সিএম সনদের বকেয়া নবায়ন ফি দ্রুত পরিশোধের জন্য তাগিদ প্রদান করা হয়।
যেসব প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ পণ্য পাওয়া যায়নি:
১. ডিমার্ট (উল্লাস শিশু পার্ক-সংলগ্ন, খালিশপুর)
২. ডেইলি শপিং (মুজগুন্নি, খালিশপুর)
৩. টেস্টি ট্রিট (মুজগুন্নি, খালিশপুর)
৪. মনা সুপার শপ (সেঞ্চুরি প্লাজা, দৌলতপুর)
৫. মেসার্স বিচিত্রা স্টোর (দৌলতপুর বাজার)
৬. সাদিয়া কসমেটিকস (দৌলতপুর বাজার)
৭. সংসার কসমেটিক্স (দৌলতপুর বাজার)
৮. স্বপ্ন সুপার শপ (দৌলতপুর)
অভিযান পরিচালনাকারী দল
বিএসটিআই খুলনার পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিল্যান্স অভিযানে নেতৃত্ব দেন:
জনাব মোঃ তারিকুল ইসলাম সুমন – ফিল্ড অফিসার (সিএম)
জনাব মোঃ সাজিদ হাসান দীপ্র – পরীক্ষক (পদার্থ পরীক্ষণ উইং)
জনাব মোঃ বায়েজীদ বোস্তামী – পরিদর্শক (মেট্রোলজি)
বিএসটিআইয়ের বক্তব্য:
অভিযান শেষে বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা জানান, জনস্বার্থে বাজারে মানহীন ও নিষিদ্ধ পণ্যের বিপণন প্রতিরোধ এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ পণ্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিএসটিআইয়ের এ ধরনের সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।